সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট, এনটিভি

তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্র
চিত্রা নদীর পারে

চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: তানভীর মোকাম্মেল

অভিনয়ে: তৌকির আহমেদ, আফসানা মিমি, মমতাজ উদদীন আহমেদ, সুমিতা দেবী, রামেন্দু মজুমদার, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী 

 

১৯৪৭ সালের কথা। পূর্ব পাকিস্তানের ছোট্ট জেলা নড়াইলে বসবাস করছিলেন শশীভূষণ সেনগুপ্ত নামের এক উকিল। তাঁর সংসারে রয়েছে বিধবা বোন অনুপ্রভা এবং দুটি ছোট ছেলে-মেয়ে মিনতি ও বিদ্যুৎ। বাড়ির পাশেই বয়ে চলেছে চিত্রা নদী। তখন দেশ বিভাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং এ নিয়ে চলছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। পূর্ব পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা ভিটে-মাটি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাচ্ছে আর পশ্চিমবঙ্গ থকে দলে দলে মুসলমানরা এসে আশ্রয় নিচ্ছে পূর্ব-পাকিস্তানে। কিন্তু শশীভূষণ তাঁর ভিটেমাটি ছেড়ে কিছুতেই কোলকাতা যাবেন না। এদিকে বিদ্যুৎ প্রতিবেশি মুসলমান ছেলেদের হাতে অপদস্থ হয়ে কোলকাতা যাওয়ার বায়না ধরলে তাকে কোলকাতায় লেখাপড়া করতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

১৭ বছর পর, ১৯৬৪ সালের কথা। শশীভূষণের মেয়ে মিনতি ততদিনে বড় হয়ে উঠেছে। মিনতি’র ছোটবেলার খেলার সাথি বাদল। মুসলমানের ছেলে হলেও বাদলের সাথে প্রেম হয়ে যায় মিনতির। বাদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে আয়ুববিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়ে। সে প্রগতীশীল চিন্তা-চেতনা’র মানুষ। বাদল ও মিনতি একে অপরকে ভালোবাসে, যদিও তাদের ভালোবাসার পরিণতি কি হবে সে সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না।

এদিকে সে সময় আবার শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আবারও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে পশ্চিমের দিকে পা বাড়ায়। শশীভূষণের এক বিধবা ভাতিজি ধর্ষিত হয়। সে চিত্রা নদীতেই আত্মহুতি দেয়। মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন শশীভূষণ। এক সময় চিত্রা নদীর পাড়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এরপর মিনতি আর অনুপ্রভার পক্ষে পূর্ব-পাকিস্তানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। অবশেষে তারা পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি ছেড়ে পাড়ি জমায় কোলকাতায়। ভিটে-মাটির সাথে মিনতি ফেলে যায় তার শৈশব, তার ভালোবাসা এবং জীবনের সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িয়ে থাকা চিত্রা নদী।

তাভীর মোকাম্মেল পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী, আমীরুল ইসলাম প্রমূখ। সিনেমাটি ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায়।

সাতদিন/এমজেড

১৫ আগস্ট ২০১৫

মুভি

 >  Last ›