রমনায় চলছে পৌষ উৎসব

রমনায় চলছে পৌষ উৎসব

২ থেকে ৪ জানুয়ারি

রমনা বটমূল, ঢাকা

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্রে ভরপুর। এখানে প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট যা প্রকট আকারে চোখে পড়ে। শীতের শুরু হয় পৌষমাস দিয়ে। এ মাস প্রাচুর্যের মাস। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ নিয়ে বাংলার কৃষক সমাজ আদী কাল থেকে এই উৎসব পালন করে আসছে। এই উৎসব গ্রাম কেন্দ্রিক হলেও বর্তমানে শহুরে সমাজেও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব পালনের চল।


২ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা বটমূলে শুরু হল পৌষ উৎসব। ‘শান্তির পায়রা উড়ুক পৌষের আকাশে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিন দিনের এই উৎসব উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাটির পাত্রে তুষের আগুন জ্বালিয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন। এই পাত্রটিকে আইল্যা বলা হয়।


এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় রফিকুল ইসলামের কন্ঠে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘প্রতীক্ষা’ কবিতাটির আবৃত্তি’র মধ্য দিয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও পৌষমেলা উদযাপন পর্ষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ। পৌষকথনে অংশ নেন নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মাঞ্জার চৌধুরী সুইট।


ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে পৌষমেলার চল্লিশটি স্টল। এসব স্টলে থাকছে তেলের পিঠা, দুধরাজ, পানতোয়া, ঝালপিঠা, গোলাপফুল পিঠা, খেজুর রসের পিঠা, চিকন সেমাই পিঠা, মেরা পিঠা, রস পিঠা, চিড়ার মোয়া, কাউনের মোয়া, ঝালপোয়া, ভাপাপিঠা, দুধচিতই, ফুলঝুরি নকশা, পাটালি গুড়ের খিরসা, পাটিসাপটা, ঝিনুক পিঠা, মালপোয়া, তেলপোয়া, বিবিখানা, জামাইতোষণ, মুগপাক্কন, সোনামুখী পাক্কন, বাহারি আচার, মধুসহ রকমারি পণ্য।

সাতদিন/এমজেড/৩জানুয়ারি২০১৫


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

 >