টেলিফিল্ম: কলিং বেল

৮ জানুয়ারি সকাল ১০টা ৩০ মি:, এসএ টিভি

রচনা ও পরিচালনা: গৌতম কৈরী
অভিনয়: মৌ, তৌসিফ, শারলিন

অনিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কবিতা আর গান নিয়ে সময় কাটে তার। সহপাঠী শান্তা অনিককে পছন্দ করে। শুধু পছন্দ বললে ভুল বলা হবে, বলা যেতে পারে পাগল প্রায়। প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ নানাভাবেই শান্তা অনিককে সে এ কথা বুঝিয়েছে। কিন্তু অনিক নির্বিকার। গিটারের কড, টিউন আর কবিতার উড়ন্ত শব্দাবলী ঘিরে আছে তার সবকিছু।

ছোটবেলায় ঠিক কবে মাকে হারিয়েছে মনে নেই অনিকের। তাই মায়ের স্মৃতি কেবল ছবি। বাবা ব্যস্ত এক্সপোর্ট ইমপোটের্র ব্যবসায়। বাসায় এক কাজের মানুষ আছে গফুর চাচা। সেই দেখাশোনা করে অনিকের। মিউজিকের পাশাপাশি একটু শখের ফটোগ্রাফি করে অবসরে।

একদিন খুব সকালে অনিক ক্যামেরা নিয়ে ছাদে যায়। ছাদে টুকটাক ছবি তোলে এমন সময় নীচে একটা ট্যাক্সিক্যাব এসে থামে ঠিক তাদের বাসার অপর প্রান্তে। ক্যাব থেকে নামে এক চল্লিশোর্দ্ধ মহিলা, সুবর্ণা। সে মালপত্র নামায় অনিক ছবি তোলে সুবর্ণার। সুবর্ণা নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে এসেছে। কিন্তু ক্যাবের ভাড়া দিতে গেলে দেখা গেলো তার কাছে ভাংতি নেই। অনিক দৌড়ে নিচে ভাংতি টাকা নিয়ে গিয়ে ক্যাব বিদায় করে দেয়। সুবর্ণার সাথে পরিচয় হয়। জানা যায় সুবর্ণা চোখের ডাক্তার। একটা ক্লিনিকে বসে। তার থেকেও বড় পরিচয় সুবর্ণা ছবি আঁকে। একাই থাকে। ডিভোর্স হয়েছে প্রায় বছর তিন হলো। একটা ছোট মেয়ে আছে, বাবার সাথেই থাকে।

অনিক সুবর্ণাকে নতুন বাসায় সাহায্য করে। অনিক রাতে ছবিগুলো দেখে। পরদিন সকালে সুবর্ণা অনিকের বাসায় আসে আগের দিনের ক্যাবেব ভাড়ার টাকা শোধ করতে। এভাবে আস্তে আস্তে সুবর্ণার সাথে অনিকের একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনিক সুবর্ণার বাসায় গিয়ে গান শোনায়, নিজের লেখা কবিতা শোনায়। বিভিন্ন ছুতায় চোখ দেখাতে যায় সুবর্ণার ক্লিনিকে। আর যেটা করে সেটা হলো গোপনে সুবর্ণার ছবি তোলে। আবার পরদিন ফুল আর ছবিগুলো দরজার সামনে রেখে কলিং বেল টিপে দিয়ে চলে আসে। সুবর্ণা নিজের ছবি দেখে মুগ্ধ হয়। এভাবে মাঝে মাঝেই অনিক নানান উপহার ও ছবি রেখে আসে। সুবর্ণা বুঝে উঠতে পারে না কে এই ব্যক্তি। ছবি আর উপহারে সুবর্ণার ঘর ভর্তি হতে থাকে। সুবর্ণা অপরিচিত সেই লোকটিকে একটু একটু করে পছন্দ করতে শুরু করে। সে অনিককে এইসব বলে।

সাতদিন/এমজেড/৭জানুয়ারি২০১৫


নাটক

 >  Last ›