ইতালীয় শিল্পী তারশিকো’র একক চিত্রপ্রদর্শনী

১৬ থেকে ৩০ জানুয়ারি

বেঙ্গল শিল্পালয়, ধানমণ্ডি, ঢকা

কারুশিল্পের ঐতিহ্যচেতনাকে সাম্প্রতিক শিল্পভাবনায় প্রয়োগের যে চর্চা তা বিশ্বের অন্য শিল্পীরাও করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের কাঁথাফোড় নিয়ে কাজ খুব বেশি হয়নি। তারশিতোর প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ এমন একজন শিল্পীর সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করাতে আগ্রহী, যাঁর হৃদয়ের বড় একটা জায়গা জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ এর আয়োজনে আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ইতালীয় শিল্পী নিকোলা স্ট্রিপ্পোলি তারশিতোর ‘তারশিতো : এমব্রয়ডার দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Tarshito: Embroider the World) শীর্ষক একক চিত্রকলা প্রদর্শনী শুরু হবে।

১৬ জানুয়ারি বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে বেঙ্গল শিল্পালয়ে পক্ষকালব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে ইতালির মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. মারিও পামা। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি শিল্পী চন্দ্রশেখর সাহা।

প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা প্রায় ৩০ টি। প্রদর্শনী আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

শিল্পী নিকোলা স্ট্রিপ্পোলি তারশিতো ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন। স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ফ্লোরেন্সের ইউনিভার্সিটি অব আর্কিটেকচার থেকে। তিনি একাধারে স্থপতি, শিক্ষক ও শিল্পী। পৃথিবীর পূর্ব আর পশ্চিম প্রান্তের আধ্যাত্মিকতা, সৃজনীশক্তি ও ঐতিহ্যপ্রসূত যে বৈচিত্র্য রয়েছে তা নিয়ে তারশিতো ভাবতে পছন্দ করেন। গভীর মানববাদী এই শিল্পী মনে করেন দেশে দেশে দ্বন্দ্ব, বিভেদ ও সামাজিক অন্যায়ের পেছনে রয়েছে প্রকৃতির নিয়মের বাইরে গিয়ে মানুষেরই সৃষ্টি করা সমস্ত কৃত্রিম বিভাজন। এই প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো পৃথিবীর ভোগৌলিক বিভাজন, সাংস্কৃতিক অমিল, চিন্তার অনগ্রসরতা আর আবদ্ধ মানসিকতাকে ছাপিয়ে জীবনের জয়গান গাইতে উৎসাহ জোগায়।

সুদূর ইতালির বারি অঞ্চলে রচিত চিত্রকর্মের সঙ্গে কাদামাটির বাংলাদেশের শিল্প উপাদান সম্পৃক্ত করে তাঁর শিল্পকর্মে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। বাংলাদেশের কাঁথাশিল্পীরা তারশিতোর ক্যানভাসে সুই-সুতোর নিপুণ ফোঁড়ে গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরন্তন আবেদনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাংলাদেশের কাঁথা আর ইতালির চিত্রকর্মের সম্মিলন—শুধু এটাকেই তারশিতোর শিল্পকর্মের শেষ লক্ষ্য সম্ভবত বলা যাবে না। শিল্পী দুটি দেশের আবেগ, যাপিতজীবনের গল্প আর আর্থসামাজিক অবস্থানকে ক্যানভাসে চিত্রিত করতে চেয়েছেন। বিশিষ্ট নকশাবিদ ও বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি চন্দ্রশেখর সাহার তত্ত্বাবধানে এবং যশোরের চারুপীঠের শামীম আহমেদের সহযোগিতায় কারুশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ছোঁয়া’-র ১৫ জন কারুশিল্পী প্রায় ছয় মাস কাজ করে তারশিতোর শিল্পকর্মে কাঁথার কাজ ফুটিয়ে তোলেন।

বর্তমান প্রদর্শনীর কাজগুলো শিল্পী পর্যায়ক্রমে নেপাল ও দিল্লিতে প্রদর্শন করবেন।

সাতদিন/এমজেড/১৫জানুয়ারি২০১৫


প্রদর্শনী

 >  Last ›