রাত ৯টা, ২ অক্টোবর, এসএ টিভি

একক নাটক: নীলাম্বর চিঠি

রচনা: আহমেদ তাওকীর
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: এম. এ. কামাল ম্যাক
অভিনয়: শতাব্দী ওয়াদুদ, শারমীন জোহা শশী


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সানজিদা ও মুনাম, বাবুল ডি কস্টা নামক এক প্রাক্তন ছাত্রের কাছে আসা একটি চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য তার গ্রামে গিয়ে জানতে পারে, উক্ত ব্যক্তি মৃত। পরে তারা তাদের শিক্ষকের পরামর্শে চিঠিটির খবর পত্রিকায় ছাপায়। পত্রিকার খবর দেখে চিঠিটির উদ্দেশ্যে আসেন বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ লেখক মিত্র রোজারিও যিনি এই ছদ্ম নামেই প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত। চিঠিটা পেয়ে অত্যন্ত বিষণ্ণ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন লেখক। তিনি খ্রিস্টানদের কবরস্থানে গিয়ে একটি কবরের পাশে বসেন। এটি তার প্রেমিকা লীনা রোজারিওর শেষ চিঠি, যা কিনা পোস্ট করা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। কিন্তু অদ্ভুত রহস্যের কারণে চিঠিটা ২৬ বছর পর লেখকের হাতে পৌঁছায়। অথচ কোনো এক বৃহস্পতিবারে তাদের দুজনের এক সাথে থাকার কথা ছিল। তবে লেখকের এই আকাশচুম্বি সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে লীনা রোজারিও’র স্বর্গীয় ভালবাসা। সে প্রতিরাতে একটি করে গোলাপ নিয়ে অশরীরী আত্মা হয়ে তার প্রেমিকের কাছে আসত। তার ভালবাসার সেই অদৃশ্য শক্তি দিয়েই লেখক একের পর এক গল্প উপন্যাস লিখতেন। একাকী জীবনের শেষ বেলায় হঠাৎ প্রেমিকার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে লেখক অত্যন্ত ভেঙ্গে পড়েন এবং লীনাকে উৎসর্গ করে “নীলাম্বর চিঠি” নামক একটি উপন্যাস লেখা শুরু করেন। যে রাতে উপন্যাসটি লেখা শেষ হয়, সেই রাতেই লেখক স্ট্রোক করে চিরতরে প্রেমিকা লীনার কাছে চলে যান। শহর জুড়ে তখন কেবলই শোকের ছায়া।

কয়েক মাস পর “নীলাম্বর চিঠি”র জন্য মিত্র রোজারিও এবছরও শ্রেষ্ঠ লেখক এবং বর্ষসেরা উপন্যাসের পুরস্কার জিতে নেন। এবার মিত্র রোজারিও ও লীনা রোজারিও দুজনই অশরীরী আত্মা হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে এবং তাদের অসম্পূর্ণ ভালবাসার সফলতার পূর্ণতা দেখে অত্যন্ত খুশি হন। তারপর গোধুলীর উপস্থিতি টের পেয়ে একে অন্যের হাত ধরে আবার মহাকালে ফিরে যায়।

আহমেদ তাওকীর-এর রচনা ও এম. এ. কামাল ম্যাক-এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, শারমীন জোহা শশী, তৌফিকুল ইমন, নুসরাত জাহান খান নিপা, সানসী ফারুক ও আরো অনেকে।

 

২ অক্টোবর ২০১৫

টেলিভিশন

 >  Last ›