কনা রেজা’র গল্প অবলম্বণে ধারাবাহিক নাটক

শূন্য জীবন

বুধ ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মি চ্যানেল আই

চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: মেহেদী বিন আশরাফ

অভিনয়: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, হান্নান শেলী, কচি খন্দকার, ম.ম. মোর্শেদ, স্বাগতা, মৌসুমী নাগ, আলভী, নওশাবা, অর্ষা, সাজু খাদেম, প্রাণ রায়, হাবিবুল বাশার সুমন, রওনক হাসান, আদ্নান ফারুক হিল্লোল

চ্যানেল আইতে আজ ৪ ফেব্র“য়ারি থেকে প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে কনা রেজা’র গল্প অবলম্বণে নির্মিত প্রথম ধারাবাহিক নাটক শূন্য জীবন। এ ধারাবাহিকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের অভিনয়ে প্রথম অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে। ধারাবাহিকটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মেহেদী বিন আশরাফ। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন হান্নান শেলী, কচি খন্দকার, ম.ম. মোর্শেদ, স্বাগতা, মৌসুমী নাগ, আলভী, নওশাবা, অর্ষা, সাজু খাদেম, প্রাণ রায়, হাবিবুল বাশার সুমন, রওনক হাসান, আদ্নান ফারুক হিল্লোল প্রমুখ। প্রচার হবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৭.৫০ মিনিটে।

গল্প সংক্ষেপ. আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি তারা সবাই কম বেশি কোন না কোন স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় থাকি অথবা ঢাকা শহরে আসি। এই ঢাকা শহর সবাইকে যে তার স্বপ্ন পূরন করাবেই এমন কোন কথা এই প্রানহীন ঢাকা কাউকেই দেয় না। কিন্তু তার পরও আমরা এই ঢাকাবাসিরা সপ্ন দেখি, সপ্ন ভাবি, সপ্ন দেখতে ভালবাসি। মূলত আমাদের এই শূন্য জীবন গল্পটি চারজন তরুনের স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। যারা সবে মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে বেকার খেতাবটি গায়ে মাখিয়ে ফেলেছে। তাদের মনের মাঝে এখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বিরাজ করছে।

এদের একজন লুৎফর যার বাড়ি ফরিদপুর, যিনি ফরিদপুরে থাকাকালীন ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় এক বিশাল প্রেমে পরেছিল এবং সেই বিশাল প্রেম তার জীবনে ছোট একটি ছ্যাঁকা দিয়েছিল। যার ভার সে এখনও বহন করছে আর এ কারনে সে এখন পুরোপুরি প্রেম ও নারী বিদ্বেশী এক তরুন। অবশ্য এটি ওনার বাইরের একটি রূপ। ভেতরে ভেতরে এখনও তার মেয়েদের প্রতি পুরাপুরি দুর্বলতা আছে কিন্তু এই প্রানহীন ঢাকা লুৎফরকে এই সত্যটি অনুধাবন করতে বাধ্য করেছে কিন্তু প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। ফরিদপুর শহরে লুৎফরের পরিবার থাকে। মূলত বাড়ির টাকায়ই তার জীবন পরিচালিত হয়, কিন্তু তার সামনে আছে মাত্র আর তিন মাস এর পরে বাড়ি থেকে টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে তাই তার সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। এতো গেল লুৎফরের কথা এবার আসি আমরা ইমরানের কথায়।

ইমরানের দেশের বাড়ি নওগাঁ, যাকে প্রেমিক হিসেবে আমরা এই গল্পে খুজে পাই। অবশ্য তার প্রেমটা একটু ভিন্ন, প্রেমিকাটাও একটু ভিন্ন , যার নাম শান্তি কিন্তু এই শান্তি নামের মেয়েটি ইমরানকে সবসময় অশান্তির মধ্যেই রাখে। উঠতে বসতে হাটতে চলতে ঘুরতে খেতে এমনকি ঘুমাতেও ইমরান শান্তির কাছে ডমিনেট হয়। এই বিষয়টা নিয়ে ইমরানের মধ্যে কিঞ্চিত সমস্যা থাকলেও সেটা প্রকাশ করার ক্ষমতা আমরা খুজে পাই না গল্পের প্রথম দিকে। এই কারনে ইমরানের কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই তার বন্ধু মহলে। ইদানিং শান্তির বাড়ি থেকে বিয়ের পাত্র দেখা শুরু হয়ে গেছে আর ইমরানের জীবনে শুরু হয়ে গেছে আরও ভয়ংকর সব অশান্তির।

অন্যদিকে ফুল নামে তাদের আরেক বন্ধু যার নামের মধ্যেই মেয়ে মেয়ে একটা গন্ধ খুজে পাওয়া যায় কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য তার জীবনে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের ছায়াও আসে নাই। ফেন্সি একটু বিচিত্র চরিত্রের অধিকারী দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ, বাড়ির অবস্থা বেশ ভাল, বাড়ি থেকে ইদানিং চাপ আছে বিয়ে করার কিন্তু তার মনের ভেতরের চাপ হচ্ছে প্রেম করা, আর এই প্রেমই এখন পর্যন্ত তার জীবনে আসে নাই। জীবনের মূল্যবান ২৬ টা বছর ধরে সে চেষ্টা তদবীর করে যাচ্ছে একটি মাত্র প্রেম করার যা এখনও হয়ে উঠেনাই কিন্তু ফেন্সি ভয়ংকর আশাবাদী এক প্রেমিক যোদ্ধা যে মরার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবে একটি নিঠুর প্রেম করার এবং বিয়ে সে তাকেই করবে যার সাথে সে এই নিঠুর প্রেমটি করতে পারবে। আর তাই তার এই বেকারত্ব ও বাড়ি থেকে বিয়ের চাপাচাপি নিয়ে ফেন্সির মধ্যে কোনই সমস্যা নেই।

এল এর লুৎফর, আই- এর ইমরান, এফ- এর ফুল সাবলেট ভারা থাকে ই- এর ইমনের বাসায়। ইমনের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ইমনরা দুই ভাই এক বোন। ইমনের বোনের একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে, ছোট ভাইটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আর অন্যদিকে ইমনের আছে টুম্পা নামের এক অসম্ভব সুন্দরী প্রেমিকা। ইমনের প্রেমটি আর দশটি প্রেম থেকে আলাদা ওদের একদিন ভাল থাকে তো তিনদিন খারাপ থাকে। টুম্পার সাথে সম্পর্ক খারাপ থাকার অন্যতম কারন হল ইমনের অনিশ্চিত ভবিষ্যত। টুম্পা কোন ভাবেই হিসাব মিলাতে পারে না ইমনকে সে তার জীবনে কি ভাবে পাবে কারন ইমন নিজের জীবনের ব্যাপারে বড্ড বেশি উদাসীন।

গল্পের এই পর্যায়ে আমরা খুজে পাই দুই প্রেমিকার চাপাচাপি, নিজেদের পরিবারের চাপাচপি এবং বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চার বন্ধু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বি সি এস তাদের জন্য না। শুধু চাকরি করে ঢাকা শহরে জীবন যাপন করা সম্ভব না। আর তাই একমাত্র উপায় হল কম পূজি খাটিয়ে একটি ভাল ব্যাবসা করা। এই চারজনের পথ প্রদর্শক এবং সুচিন্তিত বুদ্ধিদানকারী ইমনের একমাত্র মামা এল এ খান মামা। যাকে ওরা চারজন চেনে এফ ডি সি’র সনামধন্য একজন ক্যামেরাম্যান হিসেবে কিন্তু মূলত এল এ খান মামা একজন মিউজিক ভিডিওর ক্যামেরাম্যান। প্রথম দিকে মামা ধরা না দিলেও বহু কষ্টে মামাকে শেষ পর্যন্ত তারা খুজে পায়। এল এ খান মামা সব কিছু শোনার পরে সমস্যার সমাধান তরিৎ গতিতে করে দেয়। মামা সবার উদ্দেশ্যে বলে যে বাংলাদেশে এখন বিনোদন চ্যানেলের সংখ্যা ২৫ টা। ২৫ টা চ্যানেলে প্রতিদিন কম করে হলেও ৮০ টা নাটক দেখানো হয় এবং এই নাটক বানাতে অসংখ্য পরিচালকের শ্যূটিং হাউসের দরকার হয়। আমার অনেক নামকরা পরিচালকের সাথে ভাল সম্পর্ক আছে সুতরাং আমরা অল্প খরচে একটা শ্যূটিং হাউস খুলতে পারি এবং এটা চালানোর সব দায় দায়িত্ব আমার। প্রথম দিকে সবাই একমত না হলেও পরবর্তিতে তারা শ্যূটিং হাউস্ দেয়ার ব্যাপারে একমত হয় এবং এই শ্যূটিং হাউসের নাম দেওয়া হয় ‘লাইফ’ শ্যূটিং হাউস্।

শ্যূটিং হাউস চালু হওয়ার পর একজন মিউজিক ভিডিওর ক্যামেরা ম্যান হিসেবে মামার অভিজ্ঞতা ও সবার শ্যূটিং সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান না থাকলে যা হওয়ার তাই ঘটতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শ্যূটিং ইউনিট আসতে থাকে এবং হাস্যকর ও মজার সব কাহিনী ঘটতে থাকে। আবার এই চার জনের একজন ইমরান ভেবে বসে নাটক বানানো খুব সহজ, শুরু করে দেয় নাটক বানানো। অন্যজন ইমন প্রযোজক বনে যায়। ফেন্সি হতে চায় অভিনেতা মডেল। আর লুৎফর কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, সে ¯্রােতের সাথে গা ভাসিয়ে দেয়। অন্যদিকে সবার প্রেম ও সংসার জীবনে সমস্যা কমার চাইতে দিন দিন সমস্যা বারতেই থাকে আর এভাবেই এগিয়ে যায় আমাদের শূন্য জীবন ধারাবাহিকের গল্প।

মূলত এটি একটি বাস্তব সম্মত কমেডি ধাচের গল্প যার মধ্যে আমরা খুজে পাব আমাদেরই চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা সব বিচিত্র কাহিনী এবং এই নাটকটির মাধ্যমে দর্শকদের কাছে আমাদেও মূল ম্যাসেজ থাকবে ‘নিজ অবস্থানের বাইরে কোন কিছুর কল্পনা বা স্বপ্ন দেখা উচিত না, যার যেটা করা উচিত তার সেটা অবশ্যই দেখে শুনে বুঝে করা উচিত।’ প্রায় দশটি চরিত্র সব সময়ই দেখতে পাব এবং আরও পনেরটি চরিত্র বিভিন্ন সময় আসবে যাবে এই নাটকে। যদিও গল্পটির মূল ভিত্তি থাকবে হাস্যরসের উপরে কিন্তু তার পরও সুখ দুঃখ হাসি কান্না প্রেম বিরহ সামাজিক মূল্যবোধ সব কিছুরই সন্নিবেশ ঘটবে এই শূন্য জীবন গল্পটিতে।


নাটক

 >  Last ›