রাত ৯টা ৪৫ মি, ৪ এপ্রিল দেশ টিভি

‘বেলা অবেলা সারাবেলা’ অনুষ্ঠানে

যাদু সম্রাট জুয়েল আইচ

উপস্থাপনা: আসাদুজ্জামান নূর


স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের যাদু সম্রাট জুয়েল আইচের জন্ম ১৯৫০ সালের ১০ এপ্রিল বরিশালে। তবে তাঁর শৈশব কেটেছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠি গ্রামে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। পরে তিনি পিরোজপুর শহরে চলে আসেন। সেখানকার সরকারি হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি. এবং স্থানীয় কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।


এই গুণী শিল্পী যখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র তখন শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ঢাকা ছেড়ে চলে গেলেন গ্রামে। সেখানে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করলেন তাঁর কর্মজীবন। এরপর শিক্ষকতা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে এসে নিজেকে জড়ালেন যাদু শিল্পে। মঞ্চে প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭২ সালে। এরপর মিডিয়ায় প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭৯ সালে। প্রথমদিকে এক ধরনের ভালোলাগা থেকেই জাদু ক্ষেত্রে তার বিচরণ শুরু হয়। কিন্তু একটা সময় তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন। বাংলাদেশের মাথা উঁচু করার হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষেত্রকে বেছে নেন তিনি। এরপরের ইতিহাস কেবল সামনে চলার। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুণী শিল্পী একুশে পদকসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জুয়েল আইচের রয়েছে বিশাল সংগ্রহ ভা-ার। এ সংগ্রহশালার অধিকাংশই বই। এর মধ্যে যাদুর বইতো আছেই, আরো আছে বিচিত্র ধরনের হাজার হাজার বই। আরেকটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রচুর ভিডিও ও অডিও ক্যাসেট, ডিভিডি এবং সিডি। এর অধিকাংশই ক্লাসিক কিংবা ক্লাসিক্যাল। তাঁর সংগ্রহের আরেকটি ভিন্ন বিষয় হলো বাঁশি। নিজে আবিষ্কার করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একটি বাঁশী। পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া এই বাঁশীর নাম রেখেছেন 'জুয়েল বাশী'। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় সংগ্রহ যাদুর সরঞ্জাম। প্রতিনিয়ত গবেষণা করে নতুন নতুন আবিষ্কার করেই চলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৫ সালে বিপাশা আইচ এর সাথে তার দাম্পত্য জীবনের আরম্ভ। স্ত্রী বিপাশা একদিকে সংসার এবং অন্যদিকে তাঁর যাদুর সহযাত্রী। এ তারকা দম্পতির ভালবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে তাদের একমাত্র মেয়ে খেয়া।

দেশ টিভির ‘বেলা অবেলা সারাবেলা’ অনুষ্ঠানে এবারের অতিথি হয়ে এসেছেন যাদু সম্রাট জুয়েল আইচ। উপস্থাপক থাকছেন আসাদুজ্জামান নূর।

দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বরেণ্য, প্রাজ্ঞ এবং বয়সী নাগরিকদের বর্তমান জীবন এবং অতীত কর্মকান্ডের কথোপকথন নিয়ে এ অনুষ্ঠান। দেশের যারা সারা জীবন ধরে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, মননশীলতার চর্চা করে নিজেকে উন্নীত করেছেন এক ঈর্ষনীয় অবস্থানে, সারা জীবনের চর্চায় তিনি তৈরি করেছেন স্বকীয় এক পরিমন্ডল, যা থেকে উত্তরকালের নাগরিকগন পেতে পারেন উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা। অতিথি তাঁর যাপিত জীবনের বিভিন্ন কথা তুলে ধরবেন এ অনুষ্ঠানে। এছাড়াও থাকবে অতিথির বিগত দিনের সব কাজ, বর্তমান অবসরের ফুটেজ, তারকার কাছের মানুষদের মন্তব্য। অনুষ্ঠানটি শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রচারিত হবে দেশ টিভিতে।

৪ এপ্রিল ২০১৫

আড্ডা ও আলোচনা

 >  Last ›