সন্ধ্যা ৬টা, ২৪ এপ্রিল, জাতীয় গণগ্রন্থাগার, ঢাকা

ভারতে নিষিদ্ধ প্রামাণ্যচিত্র ইন্ডিয়াস ডটার-এর প্রদর্শনী ও আলোচনা

বাংলাদেশ ডকুমেন্টারি কাউন্সিল-এর উদ্যোগে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় গণগ্রন্থাগারের নিচ তলায় সেমিনার হল-এ ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে বিবিসি নির্মিত বহুল আলোচিত তথ্যচিত্র ইন্ডিয়াস ডটার। তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন ব্রিটিশ নির্মাতা লেজলি উডউইন। ২০১২ সালে ভারতের দিল্লিতে পাব্লিক বাসে এক মেডিক্যাল-ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনার পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে ভারতের আদালত। ৫৮ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি ২০১৫ সালের ৪ মার্চ মুক্তি পায়। তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পাশাপাশি এই আয়োজনে থাকছে তথ্যচিত্রটি নিয়ে আলোচনা। সর্বসাধারণের জন্য এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

বিবিসি স্টোরিভিল অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি এই তথ্যচিত্রটি ৮ মার্চ নারী দিবসে ভারত ও যুক্তরাজ্যে প্রচারের কথা থাকলেও এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারতের আদালত। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তথ্যচিত্রটি সম্প্রচার করা হয়।

এই তথ্যচিত্রে ঘটনা পরবর্তী আন্দোলন, ভিক্টিমের পরিবারের লোকদের সাক্ষাৎকার, শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীদের সাক্ষাৎকার’সহ অনেকের সাক্ষাৎকার রয়েছে। দ্বণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাৎকারটি সচেতন সমাজকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। সাক্ষাৎকারে মুকেশ বলে, ‘ভদ্র মেয়েরা কখনও রাত ৯টার দিকে ঘুরে বেড়ায় না। ধর্ষণের জন্য একটা ছেলে যতটা দায়ী, একজন মেয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী।’ সে আরও বলে যে মেয়েদের কাজ সংসার সামলানো। তার মতে ভুলভাল পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো মেয়েদেরকে শিক্ষা দেওয়ার অধিকার অন্যদের আছে। সে জানায় যে ধর্ষণের সময় মেয়েটার প্রতিবাদ করা উচিৎ হয় নি। যদি সে প্রতিবাদ না করে চুপচাপ ধর্ষণ মেনে নিত তাহলে তাকে কাজ শেষ হলে বাস থেকে শুধু ফেলে দেওয়া হতো এবং শুধু তার পুরুষ সঙ্গীটিকেই পেটানো হতো।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ২৩ বছর বয়সী এক মেডিক্যাল-ছাত্রী ও তাঁর এক ছেলে বন্ধু দিল্লিতে পাব্লিক বাসে দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। মেয়েটির সঙ্গী এবং মেয়েটিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎস্যারত অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়।

সাতদিন/এমজেড

২৪ এপ্রিল ২০১৫

মুভি

 >  Last ›