সকাল ১০টা, ২২ মে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি

এক বছরে বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের আশংকা

ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বিষয়ক সেমিনার


আগামী ২২ মে প্রগতিশীল প্রকৌশলী, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ফোরামের (প্রস্থপ) উদ্যোগে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কমরেড খালেকুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, ডঃ তাহমিদ, অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট ডিরেক্টর, বুয়েট-জাপান ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার প্রিভেনশন এ্যান্ড সেফটি, ডঃ হুমায়ূন আকতার, অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আবু নাঈম মোঃ শহীদুল্লাহ, সাবেক ডিজি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, ডঃ এ কিউ এম মাহবুব, অধ্যাপক, ভূগোল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাঃ এম এ মতিন, সাধারণ সম্পাদক, বাপা, স্থপতি ইকবাল হাবীব, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নগরায়ণ ও সুশাসন-সংক্রান্ত উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা খান, পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, সদস্য সচীব, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, অধ্যাপক ডঃ আক্তার মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, ডঃ মোঃ আব্দুল মতিন, সভাপতি, সড়ক ও জনপথ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, অনুপম দেব কানুনজ্ঞ, সিনিয়র রিপোর্টার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।


আমাদের নাগরিক জীবনে ভূমিকম্প এক নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। নেপালে গত ২৫ এপ্রিল ৭.৯ মাত্রার এবং ১২ মে ৭.৩ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হানে যার প্রভাব পরে ভারত, তীব্বত ও বাংলাদেশে। দু’টি ঘটনায় নেপালে প্রায় ১০ হাজার, ভারত ও তীব্বত মিলিয়ে শতাধিক এবং বাংলাদেশে শুধু আতংকগ্রস্থ হয়ে ও লাফিয়ে পড়ে ৫ জন নিহত হন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি ভবন হেলে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দেশের এই ভূমিকম্প ও তার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি আমাদের আবারও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভাবিয়ে তুলেছে কারণ ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে আমরাও ভূমিকম্প ঝুকির মধ্যে আছি। ইউএসজিএস অনুমান করছে আগামী এক বছরের মধ্যেই ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এ এলাকায় হবে। এই মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকায় হতাহত হবার সম্ভাবনা ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ এবং আর্থিক ক্ষতিরসম্ভাবনা ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। তাই ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরী। তিন স্তরে প্রস্তুতির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা, সাধারণ মানুষেকে প্রস্তুত করে তোলা, জাতীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- রাজউক, পিডাব্লিউডিসহ নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি, সেই সঙ্গে প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা; যার জন্য সরকারের উদ্যোগ, সমন্বয় জরুরী। কিন্তু এইবিষয়ে প্রয়োজনীয় তৎপরতা এখনও দৃশ্যমান নয়। দরকার ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মাবলীর যথাযথ প্রয়োগ কারণ ভূমিকম্প সহনশীল ভবন করা গেলে ৯০ শতাংশ প্রাণহানি কমানো যায়।

অথচ ঢাকা শহরে ৩ লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে ৭৮ হাজার ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর রেট্রফিটিং করতে সরকারি উদ্যোগ নেয়া দরকার তা, সম্ভব না হলে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ প্রয়োজন, এর কোনটিই আমরা সরকারের তরফে দেখছি না। এই ভবনগুলো শুধু সেগুলোতে বসবাসরত বা কর্মরত মানুষের জন্যেই মৃত্যুফাঁদ নয়, পাশের ভবনগুলোর জন্যেও হুমকি। এছাড়াও রয়েছে দুর্ঘটনা ঘটে গেলে উদ্ধার তৎপরতার প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি আমাদের আশ্বস্ত করে না। আমরা রানা প্লাজায় উদ্ধার তৎপরতায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঘাটতি লক্ষ্য করেছি। সর্বশেষ ওয়াসার পাইপে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদকে বাঁচাতে না পারাও সেই অক্ষমতার দিক নির্দেশ করে। এরকম একটি প্রেক্ষিতে নেপালের মতো কোন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হলে কাঠমুন্ডুর থেকে কয়েকগুণ ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের শহরগুলোতে বসবাসরত মানুষদের কী হবে? এ সব বিষয়ই উঠে আসবে সেমিনারে।

সাতদিন/এমজেড

২২ মে ২০১৫

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

 >