বিকাল ৩টা ১০ মি, ঈদের ৩য় দিন, এটিএন বাংলা

টেলিফিল্ম: হোপলেস ম্যান

রচনা: ফারুক হোসেন
পরিচালনা: জাহিদ হাসান
অভিনয়: জাহিদ হাসান, সাদিয়া ইসলাম মৌ, সোনিয়া


ডেথ এনজাইটি অর্থ্যাৎ ডেথ ফোবিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত গ্রামের সহজ সরল যুবক জয়নাল। এই রোগে আক্রান্ত অন্য সকল রোগীর মতই সারাক্ষন মৃত্যূ আতংকে আতংকিত থাকে জয়নাল। নিঃসঙ্গ জয়নালের মৃত্যূ আতংক এতোটাই তীব্র যে ঘুমানোর সময় ঘরের দরজাও লাগায়না জয়নাল। সে একা মানুষ, যদি ভোর হওয়ার আগেই মরে যায় তাহলে লাশ পচে র্দূগন্ধ হওয়ার আগে কেউ টের পাবেনা। তাই সে ঘরের দরজা খুলে ঘুমায়। শুধু তাই নয়, কোন গাছের নীচ দিয়ে হাটেনা জয়নাল। যদি ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে মৃত্যূ হয়! গ্রামের অন্ধ ছেলেটাও পথ ধরে হাটে কিন্তু অ্যাকসিডেন্টের ভয়ে জয়নাল হাটে একদম পথের প্রান্ত ছুয়ে। আর হাটার সময় বার বার পিছন ফিরে তাকায়। কোন গাড়ী রিক্সা ভ্যান ছুটে আসছে কিনা এই ভয়ে।

অন্যদিকে শহরে বাস করে মুক্তা নামক এক ধনাঢ্য যুবতী। বাবা মা হীন মুক্তা একাই পারিবারিক ব্যবসা সামলায়। মুক্তা অত্যন্ত অসুস্থ্য। দুটো কিডনীই প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। খুব দ্রুত কেউ কিডনী ডোনেট না করলে মুক্তাকে বাঁচানো যাবেনা। মুক্তার ম্যানেজার হন্যে হয়ে কিডনী বিক্রেতা খুঁেজ। প্রায়ই কিডনী বিক্রেতা পাওয়া যায়। মুক্তা বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু শেষ মুর্হূতে কিডনী বিক্রেতা আর কিডনী বিক্রী করতে চায়না। মুক্তা আবারও নিরাশ হয়। এমন ঘটনা কয়েকবার ঘটায় মুক্তা বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছে।

মুক্তা জীবনের শেষ কয়েকটা দিন প্রকৃতির কাছাকাছি কাটাতে চায়। মুক্তা ঢাকার পাশেই এক গ্রামের বাংলো বাড়ীতে উঠে। সেখানেই পরিচয় হয় জয়নালের সাথে। মুক্তা জয়নালের মৃত্যূ ভীতি দেখে অবাক হয়। মুক্তা দ্যাখে, সর্ম্পূণ সুস্থ্য জয়নাল শুধু মৃত্যূ ভীতির কারণে তার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেনা। জয়নালের অহায়ত্ব মুক্তার খারাপ লাগে। মুক্তা নিজে মৃত্যূর মুখে দাড়িয়ে জয়নালকে বেঁচে থাকার সাহস জোগায়। মুক্তা জয়নালকে বুঝিয়ে বলে যে, এটা ঠিক যে মৃত্যূ অবাধারিত কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সারাক্ষন মৃত্যূ ভয়ে তটস্থ থাকতে হবে। জীবনকে উপভোগ করতে হবে। মৃত্যূ থেকে পালিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে। আর যদি অমর হওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে মহৎ কিছু করতে হবে। কবি সাহিত্যিক, বিজ্ঞানীরা তাদের মহৎ কর্মের মাধ্যমেই আমাদের মধ্যে বেঁেচ আছেন। মুক্তা উদাহরণ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের কথা বলে। মুক্তার কথা গুলো জয়নালের কাছে গ্রহণ যোগ্য মনে হয়। জয়নাল জানেনা, মুক্তা নিজেই মৃত্যূ পথ যাত্রী।

পরর্বতী কয়েকদিন জয়নাল অনেক ভেবে দ্যাখে, মহৎ কোন কিছু তার পক্ষে করা সম্ভব নয়। কিন্তু মহৎ একটা কিছু তাকে করতেই হবে যাতে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরেও তার নাম থেকে যায়। জয়নাল মুক্তার এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও স্কুলের মাঝে বেঁচে থাকতে চায়। মুক্তা বেঁচে থাকলেই এই প্রতিষ্ঠান গুলো বেঁচে থাকবে। জয়নাল মুক্তাকে বাঁচাতে চায়। নিজের নাম পরিচয় গোপন করে জয়নাল মুক্তাকে নিজের একটা কিডনী দান করে। কিডনী পেয়ে সুস্থ্য মুক্তার ব্যপক চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে। কাহিনী মোড় নেয় অন্যদিকে।

২০ জুলাই ২০১৫

নাটক

 >  Last ›